টেকনোলজি

টিকটক থেকে আয় করার উপায় | সেরা ৫ টি উপায় জেনে নিন

টিকটক থেকে আয় করার উপায়! টিকটক এখন শুধু মাত্র একটি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি হয়ে উঠেছে অনেকের জন্য আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। তবে, টিকটক থেকে আয় করার জন্য কিছু কৌশল ও ধৈর্য্যের প্রয়োজন। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ টিকটকের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন বিভিন্ন ভাবে টাকা ইনকাম এর মাধ্যমে। আসুন জেনে নিই টিকটক থেকে আয় করার উপায়। বিস্তারিত জানতে Cuttingto এঁর সাথেই থাকুন।

টিকটক থেকে আয় করার উপায়

টিকটক থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

এ পর্যায়ে আমরা ৫ টি সেরা টিকটক থেকে আয় করার উপায় জানবো। যে উপায় গুলো দিয়ে আমরা খুব সহজেই ইনকাম শুরু করতে পারব। তাহলে চলুন জেনে নি সেই উপায়গুলঃ

১. টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ড: 

টিকটকের নিজস্ব একটি ফান্ড রয়েছে, যেখান থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা আয় করতে পারেন। আপনার ভিডিও যদি জনপ্রিয় হয় এবং আপনার ফলোয়ার সংখ্যা যদি টিক টকের রিকোয়ারমেন্ট এর শর্ত পূরণ করে অর্থাৎ বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে, কমপক্ষে ১০ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে, এবং গত ৩০ দিনে ১ লক্ষ ভিউস কমপ্লিট থাকা লাগবে, এবং অন্যান্য টার্মস এবং কন্ডিশন ভঙ্গ করা যাবেনা তাহলে আপনি টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ড এ আবেদন করার জন্য এলিজিবল হবেন।

আরো পড়ুন: অনলাইনে ইনকাম করার উপায় ২০২৫ | ৫ টি সহজ উপায়

২. ব্র্যান্ড ডিল (Brand Deal):

যখন আপনার কয়েক লক্ষ ফলোয়ার  হয়ে যাবে এবং আপনার কনটেন্টে সম্পর্কে সবাই অবগত হবে, তখন বিভিন্ন ব্র্যান্ড আপনার সাথে কাজ করার জন্য আগ্রহী হবে। তারা আপনাকে তাদের পণ্য বা সেবা প্রচার করার জন্য অনুরোধ করবে। আপনি যদি তাদের প্রোডাক্ট ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন বা তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেন, তাহলে তারা আপনাকে ভালো পরিমাণে একটা কমিশন দিবে।

৩. এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing):

এখানে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা সেবার একটি বিশেষ লিঙ্ক পাবেন। যখন আপনার ফলোয়াররা এই লিঙ্কের মাধ্যমে কেনাকাটা করবে, তখন আপনি সেই কেনাকাটার একটি নির্দিষ্ট অংশ হিসেবে কমিশন পাবেন।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি মেকআপ সম্পর্কিত ভিডিও তৈরি করেন। আপনি কোনো একটি মেকআপ ব্র্যান্ডের এফিলিয়েট হতে পারবেন এবং আপনার ভিডিওতে সেই ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো ব্যবহার করে দেখাতে পারেন। আপনার ভিডিওতে দেওয়া লিঙ্কের মাধ্যমে যদি কেউ কোনো পণ্য কিনে, তাহলে আপনি সেই কেনাকাটার একটি অংশ থেকে ভালো পরিমাণে কমিশন পেতে পারেন।

৪. মার্চেন্ডাইজ বিক্রয় (Merchandise):

মার্চেন্ডাইজ বলতে যখন আপনার ফলোয়াররা আপনার ভিডিও এবং আপনাকে অনেক পছন্দ ও বিশ্বাস করবে, তখন তারা আপনার নিজস্ব ব্র্যান্ডের পোশাক, মগ, ফোন কেস ইত্যাদি কিনতে চাইবে। অর্থাৎ আপনার ভিউয়ার্সরা আপনার অনেক বড় ফ্যান হয়ে যাবে। তখন আপনি আপনার নিজস্ব লোগো বা ডিজাইন দিয়ে এই পণ্যগুলো তৈরি করতে পারেন এবং আপনার ফলোয়ারদের কাছে বিক্রি করে ভালো পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন।

৫. কোর্স বা সার্ভিস বিক্রয় (Courses or Services):

যদি আপনার কোনো বিশেষ দক্ষতা থাকে, যেমন নাচ, গান, ভাষা শেখানো, টিকটক ক্রিয়েটর ভিডিও এডিটিং, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি পারেন, তাহলে আপনি অন্যদের শেখানোর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। এর জন্য আপনার কোন মার্কেটিং খরচ করতে হবে না বরং আপনার ভিউয়ার্সরা আপনার কাছ থেকে এই কোর্সগুলো করতে আগ্রহ প্রকাশ করবে এবং যা হবে আপনার ইনকামের অন্যতম একটি মাধ্যম।

টিকটক থেকে মাসে কত টাকা আয় করা যায়? 

টিকটক থেকে প্রতি মাসে আপনি কি পরিমান আয় করতে পারবেন সেটা নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না কারন এটা নির্ভর করবে আপনার কনটেন্ট কোয়ালিটি এবং আপনার অ্যাক্টিভিটির উপর যেমন আপনি প্রতি মাসে কি পরিমান কনটেন্ট দিচ্ছেন এবং কি পরিমান অ্যাফিলিয়েট এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট সেল করতে পারছেন এমন অনেকগুলো বিষয়ের উপর আপনার প্রতি মাসে ইনকাম নির্ভর করবে। তবে যদি আপনার ১ লাখ বা তার বেশি ফলোয়ার থাকে এবং যদি ফলোয়ার্স গুলি একটিভ থাকে তাহলে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা কোর্স সেল করার মাধ্যমে প্রতি মাসে অনায়সেই ২০ থেকে ৩০ হাজার অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

ফলোয়ার সংখ্যা: ফলোয়ার যত বেশি হবে, তত বেশি মানুষ আপনার ভিডিও দেখবে এবং তত বেশি আয়ের সম্ভাবনা থাকবে। মনে রাখবেন, বাংলাদেশ এর জন্য এখানে ভিউ এর জন্য ইনকাম দেয়না, আপনার ফলোয়ার বা যারা ভিউয়ার্স আছে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন, এ্যাফ্লিয়েট প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে ইনকাম হবে। 

ভিডিওর মান ও জনপ্রিয়তা: আপনার ভিডিও যত বেশি মানসম্পন্ন এবং জনপ্রিয় হবে, তত বেশি লোক তা পছন্দ করবে, শেয়ার করবে এবং আপনার প্রোফাইল ফলো করবে। এতে আপনার ইনকামের পরিমাণও বাড়তে থাকবে।

ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ: জনপ্রিয় ক্রিয়েটররা ব্র্যান্ডের সাথে পার্টনারশিপ করে প্রচুর পরিমাণে টাকা আয় করতে পারেন। ঠিক আপনার যদি অনেক পরিমাণে ফলোয়ার থেকে থাকে তাহলে আপনিও বিভিন্ন ভালো ভালো ব্রান্ড এর সাথে পার্টনারশিপ করে প্রতিমাসে ভালো একটা এমাউন্ট ইনকাম করতে পারবেন।

লাইভ গিফ্টিং: টিকটক লাইভে দর্শকরা ভার্চুয়াল গিফ্ট কয়েন অথবা বিভিন্নভাবে উপহার বা উপঢৌকন দিতে পারে, যা পরবর্তীতে আয়ের একটি উৎস হতে পারে। যেমন ধরুন আপনি ভালো গেম খেলতে পারেন তো সেই বিষয়ে আপনি যদি নিয়মিত লাইক করেন এবং গেমিং এর বিষয়ে বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস আপনার দর্শকদের উপহার দেন তাহলে আপনার দর্শকরা খুশি হয়ে আপনাকে গিফট করবে যেটা হবে আপনার আয়ের একটি অন্যতম মাধ্যম।

টিকটক কেন টাকা দিচ্ছে?

টিকটক ক্রিয়েটরদের টাকা দেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো প্ল্যাটফর্মটিকে আরও জনপ্রিয় করা এবং ক্রিয়েটরদের উৎসাহিত করা। যখন ক্রিয়েটররা টাকা আয় করার সুযোগ পান, তখন তারা আরও ভালো ভিডিও তৈরি করতে উৎসাহিত হন, যা টিকটককে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এছাড়াও, টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ডের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে এবং ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সময় টিকটকে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতে চায়।

এছাড়াও, টিকটক টাকা দেওয়ার আরো কিছু কারণ হলো:

  • প্রতিযোগিতা: অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ক্রিয়েটরদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইনসেনটিভ দেয়। টিকটকও এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ক্রিয়েটরদের আকৃষ্ট করতে চায় এজন্যই মূলত তারা টাকা দেয়।
  • ব্যবসায়িক মডেল: টিকটকের মূল ব্যবসায়িক মডেল হলো বিজ্ঞাপন। আর এই বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য তাদের প্রয়োজন হয় আকর্ষণীয় কনটেন্ট। ক্রিয়েটরদের টাকা দেওয়ার মাধ্যমে তারা আরও ভালো কনটেন্ট পেতে পারে।

টিকটকে কত জন ফলোয়ার হলে টাকা পাওয়া যায়?

টিকটক ক্রিয়েটররা কীভাবে আয় করেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক। প্রেস্টন সিও নামে একজন ক্রিয়েটর মাসে গড়ে কয়েক হাজার ডলার আয় করেন। তিনি ক্রিয়েটর ফান্ড থেকে এবং স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয় করেন। অন্যদিকে, তিন বোন নিকোল, নাটালি ও নিকা টেইলর গানের প্রচারণার মাধ্যমে ভিডিওপ্রতি ৭৫০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করেন। তবে, আয়ের পরিমাণ ফলোয়ার সংখ্যা, ভিডিওর মান এবং বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে। সাধারণত, ফলোয়ার যত বেশি হবে, আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি।

শেষ কথা

আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারলেন টিকটক থেকে আয় করার উপায় এবং কি পরিমান ফলোয়ার হলে কি পরিমান ইনকাম করা যায়। আশা করি এই তথ্যটি আপনাদের টিকটক থেকে ইনকাম করার বিভিন্ন পথ দেখিয়ে দিবে যদি আজকের এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x