ইসলাম

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত আরবিতে | রমজানের সেরা ২ দুয়া

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত আরবিতে। তারাবির নামাজে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রমজান রাতেই এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। আরবি ভাষায় তারাবির দোয়া ও মোনাজাতের রয়েছে গভীর তাৎপর্য, যা মনকে প্রশান্তি দেয় ও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। যারা সঠিক উচ্চারণ ও অর্থসহ এই দোয়াগুলো শিখতে চান, তাদের জন্য এটি এক অনন্য সুযোগ। আজকের আলোচনায় আমরা আপনাকে তারাবির নামাজের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও মোনাজাত সম্পর্কে জানাবো, যা আপনার ইবাদতকে আরও অর্থবহ করে তুলবে এতে করে আপানের নিজের মনের কাছে আরও ভাল লাগবে এক কথায় এবাদতে আপনাকে তৃপ্তি বাড়িয়ে দিবে ইনশাল্লাহ। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত সম্পর্কে বিস্তারিত। 

তারাবির নামাজের দোয়া

তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাত শেষে বিরতির সময় পড়া হয়, যা অনেক জায়গায় একটি প্রচলিত নিয়ম। এ সময় মুসল্লিরা বিশেষ একটি দোয়া পড়েন, যা আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। প্রায় সব মসজিদেই এই দোয়াটি সম্মিলিতভাবে পাঠ করা হয়।

রমজান মাসে তারাবির নামাজ মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ ইবাদত। এই নামাজে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যা আত্মশুদ্ধি ও রহমতের দার খুলে দেয়।

আরো পড়ুন: তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল- জেনে নিন বিস্তারিত

তারাবির নামাজের বিশেষ দোয়া

اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ، يَا سَائِلُ يَا كَرِيمُ يَا رَحِيمُ يَا غَفَّارُ يَا بَارِئُ اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ، يَا مُجِيرُ يَا مُجِيرُ يَا مُجِيرُ، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ।

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাহ, ওয়া নাউযুবিকা মিনান্নার। ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান্নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামুর রাহিমিন। ইয়া গাফফার, ইয়া কারিম, ইয়া সাত্তার, ইয়া রহিম, ইয়া বারিক, আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান্নার। ইয়া মুজির, ইয়া মুজির, ইয়া মুজির, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামুর রাহিমিন।

অর্থ:

“সকল রাজত্ব ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত। তিনি সম্মান, মহত্ত্ব, গৌরব, শক্তি ও প্রতাপের মালিক। তিনি চিরঞ্জীব রাজা, যিনি কখনো ঘুমান না এবং কখনো মৃত্যুবরণ করেন না। তিনি সর্বদা পবিত্র, মহাপবিত্র, আমাদের ও ফেরেশতাদের প্রতিপালক।”

এই দোয়ার তাৎপর্য ও বিধান

এই দোয়াটি তারাবির বিরতির সময় অনেক মুসলমান পড়ে থাকেন, যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়। এটি মূলত আল্লাহর প্রশংসাসূচক একটি দোয়া, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, ক্ষমতা ও অসীম করুণা বর্ণনা করে। কেউ চাইলে এই দোয়া পড়তে পারেন, আবার না পড়লেও কোনো সমস্যা নেই। এ সময় কুরআন তিলাওয়াত, অন্যান্য দোয়া বা জিকির করা উত্তম।

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত আরবিতে

তারাবির নামাজের মোনাজাত ও তাৎপর্য

তারাবির নামাজ শুধু রাকাত আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি সেরা সুযোগ। নামাজ শেষে পাঠ করা মোনাজাত আমাদের প্রার্থনাকে আরও অর্থবহ করে তোলে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও করুণা কামনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির দ্বার উন্মুক্ত করে।

তারাবির নামাজের মোনাজাত (আরবি)

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ أَبَدًا أَبَدًا، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ، رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

উচ্চারণ:

সুবহানাঝিল মুলকি ওয়াল মালাকুত, সুবহানাঝিল ইজ্জাতি ওয়াল আযামতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়িল্লাযি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বূহুন কুদ্দুস, রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

অর্থ:

“সকল রাজত্ব ও ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত। তিনি সম্মান, মহত্ত্ব, গৌরব, শক্তি ও প্রতাপের মালিক। তিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনো ঘুমান না এবং কখনো মৃত্যুবরণ করেন না। তিনি সর্বদা পবিত্র, মহাপবিত্র, আমাদের ও সকল ফেরেশতাদের প্রতিপালক।”

আরো পড়ুন: নফল রোজার নিয়ত কখন করতে হয় | নফল রোজার বিস্তারিত জানুন

তারাবির মোনাজাতের গুরুত্ব

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত আরবিতে। তারাবির মোনাজাত মূলত আল্লাহর গুণাবলি ও মহত্ত্ব প্রকাশের মাধ্যমে বিনয় ও আনুগত্যের প্রকাশ ঘটায়। এটি পাঠ করলে ঈমান আরও দৃঢ় হয় এবং অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। যেহেতু এটি বাধ্যতামূলক নয়, তাই কেউ চাইলে পড়তে পারেন, আবার অন্যান্য দোয়াও করতে পারেন। রমজান মাস ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়, আর তারাবির নামাজ সেই ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর দয়া প্রার্থনা করা উত্তম আমল। তাই আমাদের উচিত হৃদয় থেকে এই দোয়া করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যাণ কামনা করা।

  1. তারাবির মোনাজাতে আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা
    রমজান মাসকে “মাগফিরাত” বা ক্ষমার মাস বলা হয়। তারাবির মোনাজাতের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করতে পারি। হাদিসে আছে, রমজানের রাতগুলোতে ইবাদত করলে আল্লাহ অতীতের গুনাহ মাফ করে দেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০১৪)। তাই এই সময় আন্তরিকভাবে মোনাজাত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  2. তারাবির মোনাজাতে আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব
    মোনাজাত শুধু চাওয়া নয়, বরং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমও। এটি আমাদের অন্তরকে নম্র ও বিনয়ী করে তোলে এবং আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তারাবির নামাজের দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার জন্য মোনাজাত আমাদের হৃদয়কে প্রশান্তি দেয় এবং ইবাদতে অধিক মনোযোগী হতে সহায়তা করে।

  3. তারাবির মোনাজাতের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা
    তারাবির মোনাজাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে শুধু পরকাল নয়, দুনিয়ার কল্যাণও চাওয়া হয়। যেমন, পরিবার, সমাজ ও বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করা যেতে পারে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন—”আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব” (সূরা গাফির, আয়াত ৬০)। তাই দুনিয়ার সব সংকট ও সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মোনাজাতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।

শেষকথা,

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত আরবিতে। তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত আমাদের ইবাদতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু আল্লাহর প্রশংসা করা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনার মাধ্যমও। তারাবির নামাজের প্রতিটি রাকাত আমাদের আল্লাহর কাছে আরও কাছে নিয়ে যায়, আর মোনাজাত আমাদের হৃদয়কে প্রশান্তি দেয়।

রমজানের এই বিশেষ ইবাদতে মনোযোগী হওয়া, সঠিকভাবে দোয়া ও মোনাজাত শেখা এবং তা আন্তরিকভাবে পালন করা আমাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে। তাই আসুন, তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি, তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতের ছায়ায় আমাদের জীবনকে সার্থক করে তুলি। ইনশাআল্লাহ, এই ইবাদত আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা এনে দেবে।

পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x