ইসলাম

ইসলামে বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায় | বিস্তারিত জানুন

সন্তান জন্মের পর ইসলামে সহবাসের সময়কাল  

ইসলামে বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায় এই বিষয়ে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। সন্তান জন্মদানের পরপরই নারীর শরীরে কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটে এবং প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব (নিফাস) শুরু হয়। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নিফাস চলাকালীন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস নিষিদ্ধ।

সাধারণত, নিফাসের সময়কাল সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যদি এই সময়ের মধ্যে রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তবে গোসল করে স্বামী-স্ত্রী সহবাস করতে পারেন। তবে রক্তস্রাব অব্যাহত থাকলে ৪০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ৪০ দিন পরও যদি সামান্য রক্তস্রাব থাকে, তবে তা সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে না, এবং সহবাস বৈধ।

আরো পড়ুন: আকাইদ শব্দের অর্থ কি – আকাইদ কাকে বলে – আকাইদ এর পরিচয়

ইসলামে বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায়

এবার আসুন জেনে নি ইসলামে বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায় এই বেপারে হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের দলিলঃ

হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে ইসলামে বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছেঃ

কুরআনের নির্দেশনা (সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ):

কুরআনের সূরা আল-বাকারা (২:২২২) আয়াতে হায়েজ বা ঋতুস্রাবের সময় সহবাস নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা নিফাসের সময়েও প্রযোজ্য।

“তারা তোমাকে হায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বল, এটি অপবিত্র। সুতরাং, তোমরা হায়েজকালীন নারীদের থেকে দূরে থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে মিলিত হয়ো না।”
(সূরা আল-বাকারা: ২২২)

হাদিসের নির্দেশনা:

১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“যে রক্তস্রাব সন্তান জন্মদানের কারণে হয়, তা নিফাস। নিফাস চলাকালীন সময়ে নামাজ, রোজা এবং সহবাস নিষিদ্ধ।” (তিরমিজি, আবু দাউদ)

২. হজরত উম্মু সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত:

“নবী (সা.) বলেছেন, নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন। এর মধ্যে রক্তস্রাব বন্ধ হলে গোসল করে নামাজ ও সহবাস বৈধ।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

তবে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সন্তান জন্মের পর শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সাধারণত ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। তাই অনেক চিকিৎসকও প্রসবের পর এই সময় পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

অতএব, ইসলামী বিধান ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তানের জন্মের পর শরীর ও মন সুস্থ হলে এবং রক্তস্রাব বন্ধ হলে সহবাস বৈধ। এতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং পারিবারিক জীবন সুখী হয়।

আরও পড়ুনঃ ইয়া ওয়াদুদু এর অর্থ কি? ইয়া ওয়াদুদু পড়ার নিয়ম ও এর ফজিলত

শেষকথা

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আশা করি বুঝতে পারছেন বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায়। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর নিফাসকালীন সময়ে সহবাস নিষিদ্ধ। রক্তস্রাব বন্ধ হলে এবং স্ত্রী গোসল করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস বৈধ। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য একজন আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও এই বেপারে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন, যথা সম্ভব আমরা ইসলামিক দলিল ভিত্তিক উত্তর দেউয়ার। এতক্ষন Cutting To এঁর  সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

FAQ about ইসলামে বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায়

১. বাচ্চা হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা যায় ইসলাম কি বলে?

ইসলামে শিশুর জন্মের পর নেফাসের (প্রসবজনিত রক্তস্রাব) সময় সহবাস করা নিষিদ্ধ। সাধারণত, এই সময়সীমা ৪০ দিন পর্যন্ত ধরা হয়, তবে যদি রক্তস্রাব আগেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পবিত্রতা অর্জন (গোসল) করার পর সহবাস করা জায়েজ।

২. সন্তান জন্মের পর কতদিন পর নামাজ পড়া যায়?

সন্তান জন্মের পর নারীর যোনি থেকে যে রক্তস্রাব (নিফাস) হয়, তা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন। তবে, রক্তস্রাব যদি এর আগেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গোসল করে নামাজ আদায় করা যাবে।

৩. সন্তান জন্মের পর কতদিন পর সহবাস করা উচিত?

সন্তান জন্মের পর সহবাসের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে, সাধারণত চিকিৎসকরা ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, রক্তস্রাব বন্ধ হলে এবং স্ত্রী পবিত্র হলে সহবাস বৈধ। রক্তস্রাব অব্যাহত থাকলে ৪০ দিন পর্যন্ত সহবাস নিষিদ্ধ। ৪০ দিন পর রক্তস্রাব থাকলেও সহবাস বৈধ।

৪. সিজারিয়ান (সিজার) হওয়ার কতদিন পর সহবাস করা উচিত?

সিজারিয়ান ডেলিভারির পর সাধারণত ৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে, এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই, আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. সন্তান জন্মের কতদিন পর পিরিয়ড হয়?

সন্তান জন্মের পর পিরিয়ড (মাসিক) শুরু হওয়ার সময় নারীভেদে ভিন্ন হয়। যারা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পিরিয়ড শুরু হতে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যারা দুধ খাওয়ান না, তাদের পিরিয়ড সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফিরে আসতে পারে।

৬. সন্তান প্রসবের পর কখন গোসল করতে হয়?

রক্তস্রাব (নিফাস) বন্ধ হলে নারীরা গোসল করে পবিত্র হবেন। রক্তস্রাব ৪০ দিনের মধ্যে বন্ধ হলে তখনই গোসল করতে হবে। ৪০ দিন পরও রক্তস্রাব চলতে থাকলে, তা ইস্তিহাজা (রোগজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে, এবং তখন গোসল করে নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদত করা যাবে।

৭. কত সপ্তাহে বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি হয়?

সাধারণত ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে নরমাল ডেলিভারি হয়। ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম নিলে তাকে প্রিম্যাচিউর এবং ৪২ সপ্তাহের পরে জন্ম নিলে পোস্টম্যাচিউর বলা হয়।

৮. সিজারিয়ান ডেলিভারির পর কতদিন পর পিরিয়ড হয়?

সিজারিয়ান ডেলিভারির পর পিরিয়ড ফিরে আসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো এবং হরমোনাল পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। যদি মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তবে পিরিয়ড শুরু হতে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যদি না খাওয়ান, তবে সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে পিরিয়ড ফিরে আসতে পারে।

পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Mohammad Roki

I am passionate about my passion to learn about technology and health.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x